গোলঘরবিডিতে সর্বশেষ ফুটবল খবর পড়ুন•লাইভ স্কোর, পয়েন্ট টেবিল ও ম্যাচ আপডেট•বিশ্বজুড়ে ট্রান্সফার ও বিশ্লেষণ•বাংলা ও ভারতীয় ফুটবলের লাইভ আপডেট•গোলঘরবিডিতে সর্বশেষ ফুটবল খবর পড়ুন•লাইভ স্কোর, পয়েন্ট টেবিল ও ম্যাচ আপডেট•বিশ্বজুড়ে ট্রান্সফার ও বিশ্লেষণ•বাংলা ও ভারতীয় ফুটবলের লাইভ আপডেট•
All News
ফিওরেন্টিনা ৪-২ জুভেন্টাস: ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর একটি
গোলঘরবিডি·২০ অক্টোবর, ২০২৬
২০১৩ সালে ফিওরেন্টিনা ও জুভেন্টাসের মধ্যে একটি ক্লাসিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
শেয়ার করুন:
ফিওরেন্টিনা ৪-২ জুভেন্টাস: ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর একটি
ফিওরেন্টিনা ও জুভেন্টাসের মধ্যে এই ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি ক্লাব ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এটি উভয় দলের সমর্থকদের জন্য একটি আবেগময় মুহূর্ত। ফিওরেন্টিনা তাদের মাঠে জয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে এবং জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে এটি চিহ্নিত হয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ফিওরেন্টিনা ও জুভেন্টাসের মধ্যে এই ম্যাচটি ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফিওরেন্টিনা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জুভেন্টাসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করে, যা তাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। এই জয়ের ফলে ফিওরেন্টিনা লিগে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করে এবং জুভেন্টাসের অপরাজিত রেকর্ড ভেঙে দেয়।
মূল বিষয়
ফিওরেন্টিনা ৪-২ জুভেন্টাস: ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর একটি.
২০১৩ সালে ফিওরেন্টিনা ও জুভেন্টাসের মধ্যে একটি ক্লাসিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।.
20 ottobre 2013, poker della Fiorentina alla Juventus in un tempo. Prima sconfitta per Conte.
২০১৩ সালের ২০ অক্টোবরের ম্যাচটির আগে জুভেন্টাস ছিল অপরাজিত। ২০১২-১৩ মৌসুমে তারা প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল এবং ২০১৩-১৪ মৌসুমের প্রথম ৮টি ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়ে তারা লিগের শীর্ষে অবস্থান করছিল। তবে, ঐ দিন তাদের জন্য রাউন্ডের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছিল ফিওরেন্টিনা। ফিওরেন্টিনা মৌসুমের শুরুতে বেশ ভালো খেলছিল এবং তারা ছিল জুভেন্টাসের পেছনে দ্বিতীয় স্থানে। ঐ দিন, ফিওরেন্টিনার মাঠ অতি পূর্ণ ছিল দর্শকে। জুভেন্টাসের সমর্থকদের জন্য সেখানে কোনো টিকেট রাখা হয়নি। ফিওরেন্টিনার সমর্থকরা জুভেন্টাসকে প্রবেশ করতে দিতে চায়নি, ফলে জুভেন্টাসের সমর্থকদের অন্যত্র থেকে এসে মাঠে ঢুকতে হয়। এতে ম্যাচের শুরুতে জুভেন্টাসের সমর্থকরা ছিলেন খুবই কম। মাঠে প্রবেশ করতে পারা জুভেন্টাস সমর্থকরা যখন তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে গিয়ে দাঁড়ালেন, ঠিক তখনই শুরু হয়ে গেল ম্যাচ।
ম্যাচের মিনিটে ফিওরেন্টিনা গোলের জন্য প্রেস করতে থাকে এবং ৭মিনিটেই তাদের প্রেসিংয়ের ফল পায় তারা। জোভান্নি সিমিওনে একটি ক্রসের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে পেনাল্টি বক্সে প্রবেশ করেন এবং পেনাল্টি ডাকেন তার জন্য ফিওরেন্টিনার খেলোয়াড়রা। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান ফ্রেঙ্কি কিয়েসা। কিয়েসার নেওয়া পেনাল্টি ঠেকানোর জন্য জুভেন্টাসের গোলরক্ষক বুফন যেভাবে ডাইভ দিলেন, সেভাবে ডাইভ না দিয়ে উল্টো পেনাল্টির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিয়েসা। কিয়েসা বুফনের ডাইভের opposite দিকে শট নেন, যার ফলে এটি গোলের কাজে পরিণত হয়। ফলে স্কোর হয়ে গেল ফিওরেন্টিনা ১, জুভেন্টাস ০।
গোল খাওয়ার পর জুভেন্টাস খেলা কিছুটা উন্নত করে। তারা আক্রমণ বাড়াতে থাকে এবং ৩৩ মিনিটে ম্যাচের প্রথম শট অন টার্গেট তাদের আসে। কিন্তু ঠিক পরের মিনিটে আবারও জুভেন্টাসের ডিফেন্স ভেঙে যেতে থাকে। জোভান্নি সিমিওনেই পেনাল্টি বক্সে প্রবেশ করে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে গোলরক্ষকের সামনে চলে যান এবং শট নেন, কিন্তু বুফন দারুণ এক সেভ করে তার ঐ শটটি গোলের মধ্যে যেতে দেয়নি। কিন্তু সিমিওনার জন্য খেলা সেখানে শেষ হয়নি। সেভ হওয়া বলটি আবার ফিরে আসে সিমিওনার কাছে এবং তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গোলরক্ষকের সামনে গিয়ে শট নেন। সিমিওনার ঐ শট জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি হাতে নিয়ে ফেললে রেফারি আবারও পেনাল্টি দেন ফিওরেন্টিনার পক্ষে। এবার পেনাল্টি নেওয়ার জন্য কিয়েসা নয়, অন্য একজন খেলোয়াড় এগিয়ে যান। পেনাল্টি শুটারের জুভেন্টাসের গোলে শটটি ঠিক কোথায় যাবে তা বুফন অনুমান করলেও তিনি সেটির দিকে যেতে পারেননি। ফলে গোল হয়ে গেল, স্কোর দাঁড়ালো ২-০।
প্রথম অর্ধের শেষের দিকে জুভেন্টাস একটি ফ্রি কিক পায়, যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন পেনাল্টি স্পেশালিস্ট আলভারো মোরাতা। তিনি ফ্রি কিকটি সরাসরি গোলের দিকে শট হিসেবে নেন এবং এটি গোলের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ফলে প্রথম অর্ধের শেষের আগে জুভেন্টাস একটি গোল পেয়ে যায়। স্কোর হলো ফিওরেন্টিনা ২, জুভেন্টাস ১।
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে কিন্তু জুভেন্টাস তাদের খেলা আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে এবং ফিওরেন্টিনার উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ৫৫ মিনিটে একটি গোলের সুযোগ পান ড্যানিয়েল রুগানিরা, কিন্তু তিনি তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৬১ মিনিটে আরেকটি গোলের সুযোগ পান জুভেন্টাস, কিন্তু বুফন অসাধারণ একটি সেভ করে ঐ শটটি গোলের মধ্যে যেতে দেয়নি। কিন্তু ৬২ মিনিটে জুভেন্টাসের আরেকটি সুযোগে গোল হলো। একটি ক্রস আসে ফিওরেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে, সেখানে হেডিংয়ে বলটি প্রথম স্পর্শ করেন লিওনার্দো বোনুচ্চি এবং দ্বিতীয় স্পর্শ করেন মোরাতা। মোরাতার দ্বিতীয় স্পর্শটি ছিলো গোল করার উদ্দেশ্যে, ফলে স্কোর হয়ে গেল ২-২।
জুভেন্টাস গোল পেয়ে খোশ মেজাজে খেলা শুরু করে এবং তারা এ সময় বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৭১ মিনিটে তারা আরেকটি গোল করে এগিয়ে যায়। বোনুচ্চি আবারও পেনাল্টি বক্সের মধ্যে একটি ক্রসের দিকে দৌড়িয়ে যান এবং হেড করেন। তার হেডটি গোলের দিকে যাচ্ছিল কিন্তু ফিওরেন্টিনার গোলরক্ষক সফিয়ার নিকول সিদ্ধান্ত নেন তিনি তা ঠেকানোর জন্য বোনুচির মতো করেই হেড করেন, কিন্তু নিকোলের হেড ছিলো বোনুচির হেডের তুলনায় দুর্বল। নিকোলের হেডটি চলে যায় পেনাল্টি বক্সের বাইরের দিকে, সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন জuveর খেলোয়াড় দিবালা। দিবালার জন্য এটি একটি সহজ কাজ ছিলো গোল করার জন্য এবং তিনি তা করেছেনও। স্কোর এখন ৩-২ জুভেন্টাসের পক্ষে।
৭৫ মিনিটে জুভেন্টাসের একটি বদলি খেলোয়াড় গোল করেন। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন কোডি গাকপো এবং মাঠে নেমে তিনি দারুণ একটি পারফরম্যান্স উপহার দেন। একটি শট পেয়ে তিনি খুবই দক্ষতার সাথে শটটি গোলের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের স্কোর হলো ৪-২ জুভেন্টাসের পক্ষে।
এরপর কী হবে
এই ম্যাচের পর ফিওরেন্টিনা তাদের মৌসুমের পারফরম্যান্সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। জুভেন্টাস, যদিও এই ম্যাচে পরাজিত হয়, তারা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে। উভয় দলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা তাদের ভবিষ্যতের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
Frequently Asked Questions
ফিওরেন্টিনা এবং জুভেন্টাসের মধ্যে ম্যাচটি কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ম্যাচটি ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জুভেন্টাসের অপরাজিত থাকার পর ফিওরেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে কি ঘটেছিল?
ফিওরেন্টিনা জুভেন্টাসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করে।
ম্যাচের সময় ফিওরেন্টিনার সমর্থকদের ভূমিকা কি ছিল?
ফিওরেন্টিনার সমর্থকরা জুভেন্টাসের সমর্থকদের মাঠে প্রবেশ করতে দিতে চাননি, ফলে জুভেন্টাসের সমর্থকদের অন্যত্র থেকে এসে মাঠে ঢুকতে হয়।
ফিওরেন্টিনা ম্যাচে প্রথম গোলটি কিভাবে করেছিল?
ফিওরেন্টিনা প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে করে, যা ফ্রেঙ্কি কিয়েসা নেন।
ম্যাচের শুরুতে জুভেন্টাসের সমর্থকদের সংখ্যা কেমন ছিল?
ম্যাচের শুরুতে জুভেন্টাসের সমর্থকরা মাঠে খুবই কম ছিলেন।