মেক্সিকো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে। ম্যাচের ১২তম মিনিটে একটি কর্নার কিকের পর ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে বাড়িয়ে দেওয়া বলটি পেয়ে দারুণ এক শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে চমকে দেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড আলেজান্দ্রো গায়ার্দো।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে।
মেক্সিকোর গোলের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল বদলির সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। ম্যাচের ৩৩ তম মিনিটে সেমি-ফাইনালের আগে হ্যারি কেইনের যেন কোনরকম আঘাত না লাগে সে চিন্তায় কেইনকে মাঠের বাইরে নিয়ে আসেন টুখেল। কেইনের স্থানে মাঠে আসে রিস জেমস।
কিনের মত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের মাঠ ছাড়ার খবর মেক্সিকোর জন্য একটি দারুণ খবর হলেও ইংল্যান্ডের জন্য তা মোটেই ভালো খবর ছিল না। কারণ,
রিস জেমসের স্থান বদল আনতে গিয়ে ইংল্যান্ডকে ৩-৫-২ ফরমেশন থেকে বদলিয়ে ৪-৪-২ ফরমেশনে নিয়ে আসে টুখেল।
ফরমেশন বদল হলেও আক্রমণে গতি বাড়াতে কিন্তু ইংল্যান্ড কম্প্রোমাইজ করেনি। যার ফল স্বরূপ ম্যাচের ৪০ তম মিনিটে একটি দারুণ ক্রস পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণ করে সাউথাম্পটনের ফরোয়ার্ড এলিয়ট অ্যান্ডারসন গোল করে ম্যাচ সমতায় নিয়ে আসেন।
১-১ গোলে সমতায় ফিরে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের আক্রমণ অব্যাহত ছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে,
ফুলব্যাক লুক শ’এর বাড়ানো বল পেনাল্টি বক্সের ভেতরে পেয়ে আবারো গোল করেন অ্যান্ডারসন।
এই গোলের ফলে
ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর মেক্সিকো তাদের খেলা আরও উগ্র করে তোলে।
মেক্সিকোর এইচার গার্নাচো,

রহিম পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফাউলের শিকার হলে ম্যাচের
৬১ মিনিটে ফ্রি-কিকের সুযোগ পায় মেক্সিকো।
ফ্রি-কিক থেকে গায়ার্ডোর বাড়ানো বলে হেডার শটে গোল করে ম্যাচে ফেরেন মেক্সিকোর খেলোয়াড় রাফেল মার্টিনেজ।
এই গোলের ফলে আবারো ম্যাচে সমতা ফিরে আসে।
মেক্সিকো ২-২ করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর ইংল্যান্ড কিন্তু তাদের খেলা আগের মতোই আক্রমণাত্মক রাখতে সক্ষম হয়।
এবং ম্যাচের ۷১ তম মিনিটে আরো একটি গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার জন্য এই গোলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেইনের জন্য,
কারণ,
নকআউট পর্বে প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে এই গোল করার মাধ্যমে কেইন এখন বিশ্বকাপে মোট ১৫ গোল করে গেলেন সর্বকালের ইংল্যান্ডের গোলের তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা গ্যারি লিনেকারের সমান গোলের (১৫ গোল) রেকর্ডে পৌঁছে গেলেন।
মেক্সিকো ৩-২ গোলের জন্য ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়ার পর আবারো তারা খেলার ধরন বদল করে ইনজুরি সময়ে ম্যাচে
কোচের দেয়া ট্যাকটিক্স অনুসরণ করে তারা আরো একজন ফরোয়ার্ড মাঠে নামায়।
ফরোয়ার্ড গায়ার্ডো মাঠে নেমে একাধিক সুযোগ তৈরী করলেও ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ভেঙে তাদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলো না।
অবশেষে রেফারি ম্যাচের শেষ বাঁশি বজান।
৩-২ গোলে ইংল্যান্ড বিজয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পেরুকে পরাজিত করে পৌঁছে যাওয়া নরওয়ের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী ম্যাচ হবে শনিবার।

