
কুরাকাও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করেছে। ইকুয়েডরের সাথে ০-০ ড্র করে তারা এই মাইলফলক স্পর্শ করে। কৌশলগত দিক থেকে এ ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরাকাওয়ের কোচ ডিক অ্যাভোকাটের জন্য এটি ছিল একটি পরীক্ষার ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেললেও, এ ম্যাচে তিনি ৫-৪-১ ফরমেশনে দল সাজান। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসি ৪-৪-২ ফরমেশন থেকে পরিবর্তন করে ৩-৪-৩ ফরমেশন নিয়ে মাঠে নামেন। দুই দলের এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ম্যাচে অনেক উত্তেজনা ছিল। তবে ম্যাচের শুরুতে দুই দলের পক্ষ থেকেই গোলের খুব বেশি সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ৮ মিনিটে একটি কর্নারের পর ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা কুরাকাওয়ের বক্সে ঢোকানোর পর পেনাল্টি বক্সের কাছে একটি ফাউলের শিকার হন। কিন্তু রেফারি ফাউলের জন্য পেনাল্টি না দেওয়ায় ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ হন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইকুয়েডর কুরাকাওয়ের ডিফেন্স ভাঙার জন্য একাধিক প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু কুরাকাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ১ মিনিটের অন্তর্বর্তী সময়ে রুম একটি দারুণ সেভ করেন। ২ মিনিটের অন্তর্বর্তী সময়ে হেডে একটি গোল করার সুযোগ পান ইকুয়েডরের একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর কুরাকাওয়ের উপর চাপ আরো বাড়িয়ে দেয়। ২য় অর্ধের শুরুতে রুমকে আবারও দারুণ সব সেভ করতে দেখা যায়। ৫২, ৫৪, ৫৬ মিনিটে ইকুয়েডরের পক্ষ থেকে গোল করার তিনটি প্রচেষ্টা রুম রুখে দেন। ৬২ মিনিটে বিশ্রামের জন্য রুমকে ডাগআউটে পাঠানো হয়। রুমের পরিবর্তে গোলরক্ষকের পদে নামেন রোয়ান الزার। কিন্তু রোয়ান আল-জার মাঠে নেমে ৩ মিনিটের মধ্যে একটি গোল খেয়ে ফেলেন। ৬৫ মিনিটে একটি ফ্রি-কিকের মাধ্যমে ইকুয়েডর গোল পেয়ে যায়। কিন্তু কুরাকাওয়ের খেলোয়াড়রা ভিএআর রিভিউর জন্য আবেদন করেন। ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় পেনাল্টি বক্সের মধ্যে একজন ইকুয়েডর খেলোয়াড় অন্য একজন খেলোয়াড়ের দ্বারা ফাউলড হয়েছিল। এই কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৬৫ মিনিটে কুরাকাওয়ের অধিনায়ক ইয়েন্স ক্যান্পে পরিবর্তিত হন। তার পরিবর্তে মাঠে নেমে আসেন ডেফেন্ডার কেভিন ডি জং। ক্যান্পের পরিবর্তনে কুরাকাও মোটরগুলো পরিবর্তন করে। তারা ৫-৪-১ ফরমেশন থেকে ৪-৪-২ ফরমেশনে ফিরে আসে। ক্যান্পে ছিলেন একটি আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ভূমিকায়, কিন্তু পরিবর্তিত ডিফেন্ডার ডি জং ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একজন খেলোয়াড়। ডি জংয়ের মাঠে নেমে আসার পর কুরাকাওয়ের ডিফেন্স আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। ৭৩ মিনিটে ইকুয়েডর একটি গোল করার চেষ্টা করে। কিন্তু এবার রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুরাকাও গোল বাতিলের জন্য ভিএআর রিভিউর আবেদন করে। ভিএআর রিভিউয়ে দেখা যায়, গোল করার সময় ইকুয়েডরের একজন খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন। অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে ম্যাচের মধ্যভাগে দুই দলের পক্ষ থেকে একাধিক গোলের চেষ্টা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফল দাঁড়ায় ০-০। দ্বিতীয় গোলরক্ষক রোয়ান আল-জার ম্যাচ শেষে বলেন, "আমরা আমাদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছি। আমরা খুবই আনন্দিত। আশা করি, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আমরা আরো পয়েন্ট অর্জন করতে পারব।"
