ব্রেকিং
গোলঘরবিডিতে সর্বশেষ ফুটবল খবর পড়ুনলাইভ স্কোর, পয়েন্ট টেবিল ও ম্যাচ আপডেটবিশ্বজুড়ে ট্রান্সফার ও বিশ্লেষণবিশ্বকাপ ২০২৬ — কাউন্টডাউন শুরুগোলঘরবিডিতে সর্বশেষ ফুটবল খবর পড়ুনলাইভ স্কোর, পয়েন্ট টেবিল ও ম্যাচ আপডেটবিশ্বজুড়ে ট্রান্সফার ও বিশ্লেষণবিশ্বকাপ ২০২৬ — কাউন্টডাউন শুরু

হারের মুখে পড়া প্রজন্মের প্রতীক: কিমিচের worst fear বাস্তব হল

গোলঘরবিডি·২ জুলাই, ২০২৬
হারের মুখে পড়া প্রজন্মের প্রতীক: কিমিচের worst fear বাস্তব হল

জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অদক্ষ প্রজন্মের মুখ হয়ে উঠেছেন জোশুয়া কিমিচ। ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানি দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি, তার জন্য তাকে এখন তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

Image

২০২৬ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ১-২ গোলে পরাজয়ের পর কিমিচের ওপর সমালোচনার তীব্রতা বেড়ে গেছে। এই ম্যাচের আগে গত ৫ বছরে কিমিচের নেতৃত্বের গুণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের মধ্যে তার প্রভাব এবং মাঠে তার পারফরম্যান্স — দুটোই ছিল হতাশাজনক। অনেকেই এখন মনে করছেন, তিনি জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অদক্ষ প্রজন্মের মুখ। কিমিচের অধীনে যে প্রজন্ম বড় হয়েছে, তাদের নিয়ে কিন্তু খুব একটা আশাবাদ ছিল না ফুটবলবিশ্বের। কিন্তু কিমিচের নিজের প্রতি আস্থা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভবিষ্যতে যখন বড় টুর্নামেন্ট আসবে, তখন তিনি এবং তার সতীর্থরা সবাই মিলে সাফল্য নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পরাজয়ের পর কিমিচের ভেতর সেই আত্মবিশ্বাস কি এখনো রয়েছে? কিমিচ কি এখনো বিশ্বাস করেন, তিনি সেই সাফল্যের প্রতীক? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বেশ কিছু গণমাধ্যম তার ওপর নজর রেখেছে। তাদের প্রশ্ন, কিমিচ কি এখনো একজন বিজয়ী খেলোয়াড়? অথবা তিনি এখন হারানো বিজয়ী গুণের প্রতীক? কিংবা তিনি এখন পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে স্রেফ বিজয়ী না হয়ে একজন বিজয়ীর প্রতীক হয়ে উঠবেন, এমন কিছু কি তিনি অর্জন করবেন? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সাংবাদিকরা কিমিচের কাছে গিয়েছিলেন, এবং তিনি কিছুটা সময় দেন এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে। কিমিচের অবশ্য সৎ উত্তর দিতে সমস্যা নেই। তিনি উত্তর দিতে গিয়েছেন পুরো honesty এবং openness নিয়ে। তাই তিনি যেমন কঠোর সমালোচনা গ্রহণ করছেন, তেমন তিনি নিজের ভেতরের অক্ষমতাগুলোও প্রকাশ করে ফেলছেন। কিমিচ কিন্তু নিজের ওপর ওঠা সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "আমি জানি, আমার ওপর অনেকের প্রত্যাশা ছিল, আমি অবশ্যই সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আমি জানি, আমার কিছু পারফরম্যান্স ছিল বাজে, আমি অধিনায়ক হিসেবে দলের জন্য যেটা আশা করা হয়েছিল, সেটা হতে পারিনি। আমি এখন অনেকের কাছে একজন অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড়"। কিমিচের এ স্বীকারোক্তি থেকে পরিষ্কার যে, তিনি চান আগামী ২০২৮ সালের ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি আবার যেন প্রত্যাশার তীর লক্ষ্যবিদ্ধ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কি অর্জন করবেন তিনি যাতে আবার সবাই তাকে বিজয়ীর প্রতীক বলে মনে করে? কিমিচের উত্তর হলো, "যে সাফল্যগুলো আগে জার্মানির জন্য অর্জন করা হতো, সেই সাফল্যগুলোতে এখন আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাকে দলে রাখা হয়, তবে আমি নিশ্চিত আগামী দিনের জন্য এবং ওই টুর্নামেন্টের জন্য আমি যেন বিজয়ীর প্রতীক হয়ে উঠতে পারি"। কিমিচের এই কথার পেছনে একটি বড় বাস্তবতা কাজ করছে। কিমিচ কিন্তু জানেন, তার বিষয়বস্তু জার্মান ফুটবলে এখন অনেকটাই obsolete হয়ে গেছে। তাই জার্মান ফুটবলে যদি তিনি আর ব্যবহারিকভাবে মূল্যবান না হন, তবে তিনি যে কিমিচের জন্য জার্মান ফুটবলের যে ধারণাটা তা অবশ্যই ২৮ সালের ইউরো এবং ৩০ সালের বিশ্বকাপে পরিবর্তিত হতে হবে, তা অবশ্যই তাকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কি এমন জিনিস বা কিসের ওপর ভিত্তি করে যখন বলা হবে কিমিচ জার্মান ফুটবলের জন্য এখনো একজন মূল্যবান খেলোয়াড়? এ নিয়ে অনেক বিশ্লেষকদের মতামত হলো, কিমিচকে এখন আর রক্ষণভাগে খেলতে না দিয়ে তাকে মিডফিল্ডে খেলা শুরু করতে হবে, যেখানে তিনি আগে খেলতেন। কারণ কিমিচের পাসিং অ্যাবিলিটি, পজিশনিং অ্যাবিলিটি, রিডিং দ্য প্লে, এগুলো এখনো অতুলনীয়। তবে ডাগআউট থেকে যদি কোচরা বলেন, কিমিচকে আমরা রাইট ব্যাক হিসেবে খেলাব, তাহলে কিমিচের জন্য দায়িত্ব হয়ে যাচ্ছে রাইট ব্যাকের জন্য যে সকল দায়িত্ব পালন করতে হয়, সে সকল দায়িত্ব তিনি যেন নিখুঁতভাবে পালন করেন। কিন্তু সেখানে তো তিনি আর তার ফুটবলিং ব্রেইনের ব্যবহার করতে পারছেন না। তাই অনেকেই ধারণা করছেন, ৩১ বছর বয়সে কিমিচকে এখন আর রাইট ব্যাক হিসেবে খেলানো উচিত নয়। কিমিচের নিজেরও এই ব্যাপারে স্বার্থসিদ্ধি রয়েছে। তিনি যদি মিডফিল্ডে খেলতে পারেন, তাহলে তিনি আরো ৫ বছর, ৬ বছর খেলতে পারবেন। কিন্তু রাইট ব্যাকে তার ক্যারিয়ার ২-৩ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এ নিয়ে জার্মান ফুটবলে একটি বিতর্কও চলছে, কিমিচকে রাইট ব্যাক হিসেবে না রেখে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর দাবি নিয়ে চলছে একটি বিতর্ক। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন হয়তো আরো ২-৩ বছর জার্ধসাত হবে জার্মান ফুটবলে, কিন্তু ২০২৮ সালের ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য কিমিচের VALUE QUESTION বা তার মূল্যবান হওয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে জার্মান ফুটবলে অবশ্যই তা স্পষ্ট করতে হবে।

শেয়ার করুন:
হারের মুখে পড়া প্রজন্মের প্রতীক: কিমিচের worst fear বাস্তব হল | গোলঘরবিডি