
নরওয়ে যখন ইরাকের বিপক্ষে তাদের প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামে, তখন Kristian Thorstvedt মাঠে নেমে ইতিহাস রচনা করে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে তিনি মাঠে প্রবেশ করেন এবং এভাবে তিনি ইর্লিং হালান্ড ও আলেকজান্ডার সোরলথের সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে নামেন। এ তিনজনের মধ্যে একটি কমন বিষয় রয়েছে, তারা সকলেই ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাদের পিতামাতারা। হালান্ডের পিতা আলফি হালান্ড, সোরলথের পিতা গোরান সোরলথ ও থরস্টভেডtের পিতা এরিক থরস্টভেডt সকলেই ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে খেলেছিলেন। ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নরওয়ে যে দলের হয়ে খেলেছিল তা মূলত ১৯৯৪ সালের জন্য বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অধিকার করে বিশ্বকাপে যায়। ১৯৩৮ সালের পর এটি ছিল নরওয়ের জন্য প্রথম বিশ্বকাপ, দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন গোরান সোরলথ যিনি তখন ছিলেন জার্মানির বুন্দেসলিগার একজন খেলোয়াড় এবং তিনি পিতার মতোই নরওয়ের জন্য ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতেন। এরিক থরস্টভেডt তখনকার সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন এবং তিনি ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারেরও সদস্য ছিলেন। আলফি হালান্ড তখন ছিলেন নরওয়ের জাতীয় দলের একজন অপরিচিত খেলোয়াড় তবে তিনি ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ফোরেস্ট ক্লাবের একজন সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নরওয়ে তাদের গ্রুপে মেক্সিকো, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির সাথে ছিল। দারুণ পারফর্ম করে তারা গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়ে ওঠে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গোলের কারণে তারা নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের এই তিনজন খেলোয়াড় তাদের বয়সী যেসব খেলোয়াড় ছিলেন তাদের সকলের ওপরে তারা ছিলেন অনেকটাই ফিট, ফলে তারা সকলেই ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলতে সক্ষম হন। এরিক থরস্টভেডt ছিলেন তখনকার সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক তিনি ছিলেন টটেনহ্যাম হটস্পারের সদস্য। গোরান সোরলথ ছিলেন ফরোয়ার্ড এবং তিনি তখন খেলতেন তুরস্কের ক্লাব বুর্সাস্পোরের হয়ে, তবে তিনি ছিলেন নরওয়ের দলে একটি নিশ্চিত স্থানের অধিকারী। আলফি হালান্ড ছিলেন নরওয়ের জন্য একটি অদ্ভুত নাম, তিনি তখন খেলতেন ইংল্যান্ডের ক্লাব নটিংহ্যাম ফোরেস্টের হয়ে, তবে তাকে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের মতো বড় ক্লাবে খেলার জন্য স্কাউটরা মনোনীত করেছিল। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ে ইনগ্রুপে ছিল ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও মেক্সিকোর। তারা গ্রুপে তৃতীয় হলেও কোনো ম্যাচে জয়লাভ করতে পারেনি কারণ তাদের সবকটি ম্যাচই ছিল গোলমুখী ড্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের গোলের সংখ্যা ছিল কম, তাই তারা নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। তবে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের যে দলটি ছিল তারা সকলেই ছিল অত্যন্ত ফিট, সে কারণে তাদের পিতা-মাতারা সকলেই ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। হালান্ড, সোরলথ ও থরস্টভেডt এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য নরওয়ে দলকে বাছাইপর্বে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা তিনজনই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে প্রথম ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে খেলেছেন এবং তারা তিনজনই মিলিতভাবে মোট ৫টি গোলের সবকটিতেই তাদের অবদান রেখেছেন। আলেকজান্ডার সোরলথ ২টি গোল করেছেন, এরিক থরস্টভেডt ১টি গোল করেছেন এবং ইর্লিং হালান্ড ২টি গোল করেছেন। এভাবে ১৯৯৪ সালের নরওয়ে দলের খেলোয়াড়দের উত্তরসূরীরা তাদের পিতামাতার গৌরব ফিরে পাওয়ার জন্য মাঠে নেমেছে।
