পুইল, একজন প্রতিভাবান ফুটবলার, যিনি তার দলের সাফল্যের জন্য সর্বদা নিবেদিত ছিলেন। অলিভার খান তার সম্পর্কে বলেছেন যে, পুইল ছিলেন দলের সবচেয়ে কম স্বার্থপর খেলোয়াড়, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। পুইলের এই গুণাবলী রোহান জাতীয় দলের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
অলিভার খান ও বাস্টিয়ান সোয়েনস্টাইগারের আলোচনা জার্মান জাতীয় দলের হতাশাজনক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে পুইলের গুণাবলীকে সামনে এনেছে। পুইলের আত্মত্যাগ ও দলের প্রতি নিবেদন তাকে একটি অনন্য খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা ভবিষ্যতে রোহান জাতীয় দলের সাফল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য প্রস্তুতির সময়, পুইলের এই গুণাবলী দলের অন্যান্য সদস্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
মূল বিষয়
পুইয়ের এক গুণাবলী ফাঁস করলেন খান, যা রোহার সাফল্য ব্যাখ্যা করে.
অলিভার খান ও বাস্টিয়ান সোয়েনস্টাইগার আলোচনা করেন জার্মানির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে।.
Kahn desvela una clave de Puyol que explica el éxito de la Roja.
অলিভার খান ও বাস্টিয়ান সোয়েনস্টাইগার, ২০০২ ও ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতা জার্মান জাতীয় দলের দুই কিংবদন্তি, একটি সাক্ষাৎকারে তাদের নিজ নিজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল গত বিশ্বকাপে জার্মানির হতাশাজনক পারফরম্যান্স।
খান সেখানে উল্লেখ করেছেন, গত বিশ্বকাপে জার্মান দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে খেলা দল থেকেই। তাই তাদের উপর চাপ ছিল অনেক।
অথচ স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২০২২ বিশ্বকাপে ছিল না। এটাই তাদের জন্য সুবিধার হয়েছে।
এমনকি তিনি পুইল প্যারেটের একটি গুণাবলীর কথাও উল্লেখ করেছেন, যা অন্য খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল।
খানের মতে, পুইল ছিলেন দলের সবচেয়ে কম স্বার্থপর খেলোয়াড়, তার নিজের খ্যাতি, নিজের ভালো খেলার চেয়ে তিনি সবসময় দলের সাফল্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
খান বলেন, "যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলার দিকে বেশি মনোযোগ দিত, সেখানে পুইল সবসময় দেখত কিভাবে সে দলের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী হতে পারে।
এটা কি করে সম্ভব যে কেউ তার খ্যাতির জন্য কিছু করবে না, তার খেলার জন্য কিছু করবে না, বরং সে দেখবে অন্যদের খেলার জন্য কিভাবে নিজের গুণাবলী, কিভাবে নিজের শক্তি ব্যবহার করবে।
এটা কিন্তু খুবই কঠিন এবং বিরল একটি গুণ।
পুইলের এই গুণাবলী কিন্তু দলে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল।
এমনকি সে যেটা করতো মাঠের বাইরে থাকতেই সেটা করার চেষ্টা করতো দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা।
সুতরাং পুইলের এই গুণাবলী দলের জন্য ভীষণ উপকারী ছিল।"
খান তার সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, "আমরা যদি পুইলের খেলাকে বিশ্লেষণ করি, তাহলে পুইল মাঠে উপস্থিত থাকলে পজিশনাল প্লে নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
এবং পুইলের যদি অন্য কোনো সিনিয়র খেলোয়াড়ের সাথে তুলনা করতে হয়, তাহলে সেই তুলনা হবে রেয়ান গিগসের সাথে।
কারণ গিগসও কিন্তু সে সময়ের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতো যখন উইং পজিশনে উঠে পড়তো তখন সে কিন্তু তার পজিশন বদলায় না, সে মাঠের যে অংশে ছিল সেই অংশেই অন্যদের বের করতে পারতো।
অর্থাৎ অন্যদের জন্য স্পেস তৈরি করা, এটা বলা যায় পুইল আর গিগসের খেলার একটি সাদৃশ্য ছিল।"
সোয়েনস্টাইগার খানকে জিজ্ঞাসা করেছেন পুইল কি কোনো বিশেষ গুণাবলীর কারণে কি ফুটবলের বাইরে কোনো বিশেষ গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যের কারণে পুইল কি একজন লিডার হিসেবে বিবেচিত হতো বা তাকে লিডার হিসেবে দেখা হতো কি না।
জবাবে খান বলেন, "লিডারশিপ কোয়ালিটি তো লিডারশিপ গুণাবলী বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু পুইল এককভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করতো।
এবং পুইলের উপস্থিতি মাঠে থাকলে এটা যেমন ছিল, পুইলের উপস্থিতি মাঠের বাইরে ড্রেসিং রুমে থাকলেও সেটা ঠিক একই রকম ছিল।
ড্রেসিং রুমে পুইল কখনোই দলকে আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ হতে দিতে দিতো না, সবসময় চেষ্টা করতো সবাই যেন একসাথে থাকে, একসাথে সময় কাটায়,
কেউ যেন অন্যদের সাথে কথা না বলা বা কম কথা বলা না করে, এধরনের একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতো পুইল।
এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
কারণ যখন আপনি একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে কি করছেন, সেটা কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের একটি রিফ্লেকশন, সেটা কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের একটা প্রতিচ্ছবি মাঠের ভেতরে।
কিন্তু যখন আপনি মাঠের বাইরে আছেন, তখন আপনার ব্যক্তিত্বের একটা প্রতিচ্ছবি অন্যরা কিভাবে দেখছে, আপনার সাথে যারা খেলছে তারা কিভাবে দেখছে,
সেটা যদি আপনি বাড়িয়ে দেখায়, যদি সেটাকে আরো উজ্জ্বল করে উপস্থাপন করতে চান, তখন মাঠের বাইরে সেই লিডারশিপ কোয়ালিটি তো আপনাকে দেখাতে হবে।
এবং পুইল সেটা নিখুঁতভাবে দেখাতো।"
খান এর সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে kicker ম্যাগাজিনে।
এরপর কী হবে
পুইলের গুণাবলী যদি রোহান জাতীয় দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তারা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে সক্ষম হবে। অলিভার খান ও বাস্টিয়ান সোয়েনস্টাইগারের মতো কিংবদন্তিদের অভিজ্ঞতা এবং পুইলের আত্মত্যাগের মানসিকতা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। আসন্ন টবল ২০২৬ fifa-তে রোহান জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের উপর এই গুণাবলী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Frequently Asked Questions
পুইলের গুণাবলী সম্পর্কে কে কথা বলেছেন?
অলিভার খান পুইলের গুণাবলী সম্পর্কে কথা বলেছেন।
কেন অলিভার খান পুইলের গুণাবলী উল্লেখ করেছেন?
খান বলেছেন যে পুইল ছিলেন দলের সবচেয়ে কম স্বার্থপর খেলোয়াড় এবং তার গুণাবলী দলের সাফল্যের জন্য ভীষণ উপকারী ছিল।
জার্মান জাতীয় দলের গত বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
গত বিশ্বকাপে জার্মান জাতীয় দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল।
পুইলের গুণাবলী কিভাবে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করেছে?
পুইলের গুণাবলী দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারা মাঠের বাইরে থেকেও তার মতো আচরণের চেষ্টা করছিল।
কোন দুটি কিংবদন্তি খেলোয়াড় সাক্ষাৎকারে আলোচনা করেছেন?
অলিভার খান এবং বাস্টিয়ান সোয়েনস্টাইগার সাক্ষাৎকারে আলোচনা করেছেন।