রাজনীতিক, ব্যক্তিগত জেট ও ক্ষমতা: FIFA সভাপতির জীবন
Sports অনুসারে।
পটভূমি
গিয়ান্নি ইনফান্তিনো FIFA সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নেতৃত্বে FIFA বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল ইভেন্টের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সক্রিয়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা তার ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক সক্রিয়তা FIFA-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছেন, যা বিশ্বকাপের সফলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে, এই পদক্ষেপের পেছনে তার উদ্দেশ্য এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মূল বিষয়
- রাজনীতিক, ব্যক্তিগত জেট ও ক্ষমতা: FIFA সভাপতির জীবন.
- FIFA সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্ষমতার রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হতে চাইছেন, কিন্তু তা কি সম্ভব?.
- Politicians, private jets and power - the life of a Fifa president.
FIFA সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্ষমতার রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হতে চাইছেন, কিন্তু তা কি সম্ভব? ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের তিনটি স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে সম্প্রতি একটি সফরে তিনি মাঠে নেমেছেন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য। ২০২৩ সালের ১১ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত এই তিন দেশে ২০০টি রাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন ইনফান্তিনো। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের সময় ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সরকার প্রধান, মন্ত্রণালয়, সংসদ ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। এ ছাড়াও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য যেসব দেশের উপর নির্ভরশীলতা থাকবে যেমন: প্যানামা, জ্যামাইকা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, এল সালভাদোর, গায়ানা, সুরিনাম, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, নিকারাগুয়া এসব দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎও তিনি এ সফরে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইনফান্তিনোর এ সফর মূলত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও সেখানে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য। কিন্তু তার এ সফরের একটি বড় প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো, কি কারণে এতসব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে তার সাক্ষাৎ, সাক্ষাৎগুলোর উদ্দেশ্য কি? মনে হচ্ছে বিষয়টি শুধুই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ভোট ব্যাংক তৈরি করা। কিন্তু আসল বিষয় হলো, কি কারণে এতদিন পর তিনি এ ধরনের সক্রিয়তা শুরু করলেন? এর পেছনে কি কোনো কৌশলগত চিন্তা রয়েছে, না হলে কি শুধু ইমেজ বিল্ডিংয়ের জন্য? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এ ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ভোট লাভের সময় যে ধরনের রাজনীতি ও কৌশল সেখানে কাজ করেছিল, তার অনেক কিছু কি আবার সক্রিয় করার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে কি আরেকটি ভোটের জন্য বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশগুলোর সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের ভোট ব্যাংকের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে? এর পেছনে কিন্তু একটি বড় কারণ রয়েছে, তা হলো, ইনফান্তিনোর জন্য এই মুহূর্তে FIFA এ কর্তৃত্ব বজায় রাখা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সেখানে আলাদা শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ৩৩টি উকেফ সদস্য দেশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে, যাতে আগামী ২০২৫ সালের বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করার দাবি জানানো হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ কিন্তু ইনফান্তিনোর পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তিনি তার কর্তৃত্ব আরো শক্তিশালী করতে, আরো ভোটের জন্য তিনি এ ধরনের রাজনৈতিক সাক্ষাৎ এবং সক্রিয়তা শুরু করেছেন বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব সাক্ষাৎ কি দীর্ঘমেয়াদে কিছু ফল দেবে? অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কিন্তু ইনফান্তিনোকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হিসেবে গণ্য করেন না। তাই তার এ ধরনের রাজনৈতিক সাক্ষাৎ ও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা কি সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যেমন ধরুন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য যে সকল দেশকে ভোট দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকের নেতা বা সরকার এখনো ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা রাখেন না। যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন এসব দেশের নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক বর্তমানে তেমন ভালো নয়। তাই ২০২৬ সালে বিশ্বকাপে যদি এসব দেশের খেলোয়াড় বা কোচরা নানাবিধ কারণে বিশ্বকাপে খেলার জন্য না আসেন, তখন কি স্বাগতিক দেশগুলোর সরকার বা নেতারা তাদের জনগণের মধ্যে বা তাদের পার্টির মধ্যে ভোট ব্যাংক তৈরি করতে পারবেন? এসব বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তাই ইনফান্তিনো যে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে শুরু করেছেন, তা কি কার্যকরী হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এরপর কী হবে
আসন্ন সময়ে ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক সফরের ফলাফল এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করা নেতাদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ভোট ব্যাংক তৈরি করতে তার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, তা দেখতে হবে। এছাড়াও, এই সফরের পর ইনফান্তিনোর কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ হতে পারে।
Frequently Asked Questions
গিয়ান্নি ইনফান্তিনো কেন রাজনৈতিক সফর করছেন?
গিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য রাজনৈতিক সফর করছেন।
কোন দেশের নেতাদের সাথে ইনফান্তিনো সাক্ষাৎ করেছেন?
ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সফরের সময় ইনফান্তিনো কাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন?
সফরের সময় ইনফান্তিনো ২০০টি রাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশের সরকার প্রধান, মন্ত্রণালয়, সংসদ ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এখন কেন ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু হলো?
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক সক্রিয়তা দীর্ঘদিন পরে শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ভোট লাভের কৌশলগত চিন্তার অংশ হতে পারে।
এই সফরের উদ্দেশ্য কি?
এই সফরের উদ্দেশ্য মূলত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ভোট ব্যাংক তৈরি করা এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা।
সম্পর্কিত নিবন্ধ
সম্পর্কিত নিবন্ধ
সম্পর্কিত নিবন্ধ
সম্পর্কিত নিবন্ধ