লিওনেল মেসি, যিনি ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছেন, তার ক্যারিয়ারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে চারটি অ্যাসিস্ট এবং আটটি গোল করেছেন, যা তাকে গোলদাতা এবং অ্যাসিস্টের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে গেছে। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের শিরোপার জন্য লড়াই করবে, যা তার ফুটবল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
Why this matters
লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়ে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় consecutive বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেসির দুই অ্যাসিস্ট এবং মোট আট গোল তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
Key Takeaways
বিশ্বকাপ ২০২৬: ইংল্যান্ডকে পরাজিত করতে লিওনেল মেসির মাস্টারক্লাস.
লিওনেল মেসির দুই অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে ২-১ পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছাল আর্জেন্টিনা।.
Lionel Messi remains central to Argentina's plans.
চার বছর আগে মনে হয়েছিল, লিওনেল মেসির গল্প শেষ। ৩৫ বছর বয়সে তিনি অবশেষে বিশ্বকাপ জিতেছেন, যা তিনি বলেন, ছিল টুর্নামেন্টে তার শেষ ম্যাচ। অনেকের মতে, এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে চার বছর আগে, ৩১ বছর বয়সে, অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশেষ করে তার চারপাশের মানুষজন, যে তিনি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে খেলবেন এবং তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের ট্রফি যোগ করতে পারবে না। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে তিনি আবারও বিশ্বকাপে একটি ফাইনালে পৌঁছালেন, এইবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা উঠল ফাইনালে।
মেসির দুটি দারুণ অ্যাসিস্টের সুবাদে এই ম্যাচে জয়লাভ করে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির এটি ছিল চতুর্থ অ্যাসিস্ট, এবং মোট গোলের সংখ্যা হলো আটটি। তিনি বর্তমানে গোলদাতা এবং অ্যাসিস্টের দিক থেকে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ১৯৯৪ সালে খেলার পর থেকে মোট ২১ গোল করেছেন মেসি, এর মধ্যে ১৫টি গোল তিনি ৩৫ বছরের পরে করেছেন।
বুধবার, ৯ আগস্ট, অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, "তিনি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। আমি জানি, আর তাকে প্রমাণ করতে হবে না। স্পেনের অধিকাংশ লোকই তার প্রেমে পড়েছে।"
বিবিসির ফুটবল বিষয়ক পণ্ডিত মাইকাহ রিচার্ডস বলেছেন, "আর্জেন্টিনার কাছে এটা ছিল একটি বিশেষ রাত। কারণ তারা জানতো, লিওনেল মেসি তাদের জন্য যা করতে পারেন, তা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে করতে হবে। ইংল্যান্ডের অনেক খেলোয়াড়ই মেসির প্রশংসা করেছেন, কিন্তু তারা হীনমন্যতায় ভুগবে না। তবে যখন মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলা হবে, তখন দায়িত্বশীলতার সাথে খেলা এবং প্রশংসা করা — এসবের বাইরে যেয়ে তাকে আটকানো উচিত ছিল ইংল্যান্ডের।"
মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই খেলা হয়নি। তবে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল এবং তিন লায়নস (ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দল) সমর্থকদের এটা কামনা করবে, মেসি যাতে কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না খেলেন। এই ম্যাচে মেসির খেলা ছিল অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে, যখন তিনি রাইট উইংয়ে চলে যান। প্রথমার্ধে কিছু দুর্দান্ত পাস দেওয়ার পর তিনি খুব একটা নড়াচড়া করেননি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে যখন ইংল্যান্ড ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়, তখন পুরো ম্যাচে তার খেলার দৃঢ়তা বেড়ে যায়।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, আর্জেন্টিনার গোলকিপার, বলেছেন, "অপর দলের ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ তৈরি করতে লিওনেল মেসিকে উইংয়ে দাঁড় করানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"
মেসি ওই ম্যাচে মোট ৮৮% পজিশন অর্জন করেছেন, অর্থাৎ পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা যতো পজিশন নিয়েছে, তার ৮৮% ছিল মেসির জন্য।
মেসি ওই ম্যাচে ৭টি ক্রস দিয়েছেন, যা ছিল সর্বোচ্চ। এছাড়াও তিনি ৭টি সুইট স্পট (অপর দলের ডিফেন্ডারের কাছাকাছি জায়গা যেখানে আক্রমণকারী খেলোয়াড়রা বল পেয়ে গোল করার চেষ্টা করেন) অর্জন করেছেন, যা ছিল ম্যাচের জন্যও সর্বোচ্চ।
দুর্দান্ত দুই গোলের পাস দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচে মেসির ছিল ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পাস, যা ছিল ম্যাচের সর্বোচ্চ।
অবশ্য, মেসির খেলার প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও। ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি কেইন বলেছেন, "মেসি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়। তার পায়ে যখন বল থাকে, তখন সে যা করতে পারে, অন্য কোনো খেলোয়াড় তা করতে পারেনা।"
এখন প্রশ্ন হলো, মেসি কি এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতবেন? এবারের বিশ্বকাপে মেসি ৮টি গোল করেছেন, যা গত বিশ্বকাপে তার ৯টি গোলের খুব কাছাকাছি। গত বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে তিনি ১ গোলের জন্য ব্যর্থ হন। তবে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমান ৮ গোল করেছেন। এমবাপ্পের দল ফ্রান্স ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে।
What happens next
আর্জেন্টিনা এখন ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে, যেখানে মেসির অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ফাইনালটি মেসির ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন অধ্যায় হতে পারে, যেখানে তিনি আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই ম্যাচের দিকে, যেখানে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারে।
Frequently Asked Questions
লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, 'তিনি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। আমি জানি, আর তাকে প্রমাণ করতে হবে না।'
মেসি কতগুলো অ্যাসিস্ট করেছেন এই বিশ্বকাপে?
মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে কিভাবে পরাজিত করেছে?