
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিল ও জাপানকে নিয়ে একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ম্যাচ, যার স্পোর্টিং ভ্যালুর পাশাপাশি একটি বিশেষ ঐতিহ্যও রয়েছে, তা হলো, এটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এক অমূল্য অধ্যায়ের কথা, যা হোলি ও বেনজি (Captain Tsubasa) নামক জনপ্রিয় মাঙ্গার কাহিনীর সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ১৯৮২ সালে যশোরের ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে জাপান ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ঐ ম্যাচে জাপানের পক্ষে বিজয়ী গোলটি করেছিল অলিভার হাটসন (Tsubasa Ozora)। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের কাহিনীটি মাঙ্গার ৮ম থেকে ১২তম খণ্ড পর্যন্ত রয়েছে। অলিভার ছাড়াও জাপানি দলের অন্যান্য তারকা খেলোয়াড় ছিল: বেঞ্জি প্রাইস (Genzo Wakabayashi), মার্ক লেন্ডার্স (Kojiro Hyuga) ও টম বেকার (Taro Misaki)। অন্যদিকে, ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কার্লোস সান্তানা, যিনি ছিলেন ব্রাজিলের দলের মূল তারকা। ফাইনালটি জাপানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে উপস্থিত ছিল জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর ব্রাজিলই মোটামুটি নিয়ন্ত্রণ করেছিল খেলাটি। জাপান প্রথমার্ধে কোনো গোল না খেয়ে টিকে থাকার জন্য শুধুমাত্র গোলকিপার বেঞ্জির উপর নির্ভরশীল ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের কার্লোস সান্তানা একটি দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু ইনজুরি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া জাপানের আরেক তারকা টম বেকার মাঠে প্রবেশ করেন, এবং তার উপস্থিতির ফলে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। টোম ও অলিভারের একটি সমন্বিত আক্রমণে জাপান সমতা ফেরায়, এর পর অলিভারের পাস থেকে লেন্ডার্স আরেকটি গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেয়। সব কিছু যখন জাপানের পক্ষে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল, তখন ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল গোল করে ২-২ সমতা ফেরায়। ফলে ম্যাচটি গিয়ে পড়ে অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে জাপান আবারও এগিয়ে যায় ৩-২ গোলে, এবং তারা বিজয়ী হয়। এই ঐতিহাসিক ম্যাচ ও জাপানের ঐতিহাসিক বিজয় ব্রাজিলের সাথে পরবর্তীকালে আর কোনো সময়েই নাড়া-ঝড়ের ম্যাচে বা টুর্নামেন্টে না পড়লেও, মাঙ্গার ২০১৩ থেকে ২০২৩ এর রাইজিং সান আরক-এ একটি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ব্রাজিল ও জাপান উভয় দল অংশগ্রহণ করে, কিন্তু সেই ফাইনালটি ছিল একপেশে, জাপান সেখানে বিজয়ী হয়।
