বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ম্যাচের সময় যেকোনো তাপমাত্রায় ড্রিঙ্কিং ব্রেক চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এটি কি খেলার গতিবিদ্যা ক্ষতিগ্রস্ত করবে? নাকি এতে ফুটবলের মান বাড়বে? এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
কোনো সন্দেহ নেই, একজন ক্রীড়াবিদের জন্য শরীরে তরল এবং বিশেষ করে উচ্চ-কার্যক্ষমতায় এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলেও ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে খেলার তীব্রতা বেড়ে যায়।
এছাড়া খেলোয়াড়ের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে তা সহায়ক। ফলে শেষ পর্যন্ত এর সুফল ভোগ করে দর্শকরা।
ড্রিঙ্কিং ব্রেক আসলে একটি কৌশলগত বিষয়। ম্যাচ চলাকালীন কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খুবই সীমিত। কিন্তু ড্রিঙ্কিং ব্রেকের সময় কোচরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করতে এবং দলগত কৌশল পরিবর্তন করার সুযোগ পান।
অন্যান্য অনেক খেলায় (ফুটবল ছাড়া) আউটসাইড (খেলা চলাকালীন সময়ে) নেওয়ার ব্যবস্থা আছে, যা ফুটবলে এখনো নেই।
ফুটবলের মান বাড়ানোর জন্য একটি সুযোগ হিসেবে ড্রিঙ্কিং ব্রেককে দেখা উচিত। ম্যাচের কৌশল এখন থেকে চারটি কোয়ার্টারে ভাগ করে পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
এতে করে ম্যাচের পরিকল্পনা আরো বেশি পরিবর্তনশীল হবে।
এটি শুধু বড় দলের জন্যই নয়, বরং ছোট দলগুলোর জন্যও কার্যকর হবে।
কিন্তু একারণে যদি বিরতিতে বিরতি পড়ে, তাহলে ছোট দলের সুবিধাটা আর থাকবে না।

বড় দলগুলোকে তো তিনটি পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়ই, যদি ড্রিঙ্কিং ব্রেকের মতো আরেকটি সুবিধা তাদের দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি তাদের পক্ষে আরো বেশি হতে থাকবে।
অবশ্য বৃষ্টির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি ড্রিঙ্কিং ব্রেক নেওয়া হয়, তাহলেই তা কৌশলগত হবে।
কিন্তু যদি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যেমন, ধূমপান গ্যালারির জন্য যদি ম্যাচের সময় আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।
এটি কিন্তু বড় দলের দর্শকদের জন্যই সুবিধাজনক হবে।
সাধারণত যারা ছোট দলের জন্য খেলে, তাদের খেলার সময় বাড়ানো মোটেই সুবিধাজনক হবে না।
ড্রিঙ্কিং ব্রেক যদি বড় দলের জন্য আরো বেশি সুবিধাজনক হয়, তাহলে তা আসলে খেলাটির জন্য ভালো হবে না।
যেহেতু খেলাটির মৌলিক বিষয় হলো, যারা খেলছে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
অথবা ম্যাচের জন্য যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
যদি সেই প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়, তাহলে খেলাটির মান কমে যাবে।
এটা কি উদ্দেশ্য হবে খেলাটির?
